Home / বিনোদন / ২৩-বছরেই বলা হয়েছিল আমি সন্তান ধারণে অক্ষম- নীতা আম্বানি

২৩-বছরেই বলা হয়েছিল আমি সন্তান ধারণে অক্ষম- নীতা আম্বানি

কন্যা এবং পুত্রের বিয়ে দিয়ে এখন তিনি শুধু মা’ই নন, শ্বাশুড়ি’মা! কিন্তু নীতা আম্বানির পক্ষে মাতৃত্ব অর্জন স্বাভাবিক বা সহজ কোনোটাই ছিলোনা। বিশেষ সাক্ষাৎকারে একথা জানিয়েছেন ভারতের সর্বাধিক ধনী ব্যক্তির স্ত্রী, নীতা।

আজ থেকে বহু বছর আগের কথা। নীতার তখন সদ্য বিয়ে হয়েছে। বছর তেইশ বয়েস। সন্তানের আকাঙ্খায় দিন গুনছেন স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু ডাক্তারবাবু স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে নীতার পক্ষে মা হওয়া সম্ভব নয়।

নীতা আম্বানি-কে অনেকেই “সর্ব গুণ সম্পন্ন”-বধূ বলে মনে করেন। স্বামীর ব্যবসায় যেমন তিনি অংশগ্রহণ করেছেন, নিত্য নতুন বুদ্ধি জুগিয়েছেন ঠিক তেমন ভাবেই সংসার সামলানোয়, সোশ্যাল ইভেন্ট অর্গানাইজেশনে দক্ষ তিনি।

ছেলের বিয়েতে মঞ্চে উঠে নেচে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নীতা। কিন্তু একসময় তাঁকে সন্তানধারণে অক্ষম তকমার সাথে যুঝতে হয়েছিলো।

নীতা বলেছেন, “বিয়ের কিছু বছর পরে আমাকে ডাক্তারেরা বলেন আপনার কোনোদিন সন্তান হবেনা। আমি যখন স্কুলে পড়তাম সেই সময়েও আমি লম্বা প্রবন্ধ লিখতাম যার শিরোনাম হত, “যখন আমি মা হব”….আর সেই আমাকে ২৩-বছর বয়েসে বলা হল আমি কখনো মা হব না। আমি ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডঃ ফিরুজা পরিখের সাহায্যে, যিনি আমার খুবই কাছের বন্ধুদের একজন, আমি আমার যমজ সন্তানকে লাভ করি”।

নীতা আম্বানি সারোগেসি পদ্ধতির মাধ্যমে গর্ভধারণ করেন। তাঁর প্রেগন্যান্সি খুবই জটিল ছিলো। আশ্চর্যের বিষয় যে যমজ সন্তানের জন্মের তিন বছর পরে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে অনন্ত আম্বানিকে জন্ম দেন নীতা! কিন্তু প্রেগন্যান্সির কারণে তাঁর ওজন অস্বাভাবিক রকমের বেড়ে গেছিলো।

সন্তানদের বড় করার ক্ষেত্রে নীতা ছিলেন কড়া মা। ঠিক সময়ে পড়াশোনা, খাওয়া এমনকি খেলার জন্যেও সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, “আমার বাচ্চারা যখন ছোটো ছিলো আমি ওদের প্রত্যেক শুক্রবার স্কুলের ক্যান্টিনে খরচ করবার জন্য ৫-টাকা করে দিতাম।

একদিন আমার ছোটো ছেলে অনন্ত দৌড়ে আমাদের বেডরুমে এসে বললো যে ৫-টাকা নয় ওকে ১০-টাকা দিতে হবে।

আমরা কারণ জানতে চাইলে সে বলে যে স্কুলে সে পকেট থেকে ৫-টাকা বের করলে বন্ধুরা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে আর বলে “এটা আম্বানি না ভিখারি”…এই শুনে আমি আর মুকেশ কিন্তু খুব হেসেছিলাম।”

একসময় নিজেকে শুধুমাত্র সংসারে সীমিত রাখলেও, যমজ সন্তানদের পাঁচ বছর বয়সের পর তিনি ধীরে, ধীরে কাজে ফেরেন এবং হয়ে ওঠেন রিল্যায়েন্সের কর্ত্রী। প্রতিকূলতায় হার না মেনে, সংসার ও ব্যবসার মধ্যে সমতা রক্ষা করার এক দারুন আদর্শ স্থাপন করেছেন নীতা।

About Desk

Check Also

কাঁদলে কমবে ওজন

কাঁদলেও উপকার হয়‌!‌ জানতেন?‌ মন তো হালকা হয়ই, তা ছাড়াও আর একটা বড় লাভ হয়। …

Leave a Reply