Home / বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ / সমকামিতা একটি মানসিক রোগ

সমকামিতা একটি মানসিক রোগ

সমকামিতা নিয়ে আজকের বিশেষ আয়োজনে লিখেছেন মো কামরুজ্জামান

Uranism কিংবা sexual inversion এর বাংলা অর্থ হলো সমকামিতা। অর্থাৎ, একজন পুরুষ যখন অন্য আরেকজন পুরুষের সাথে সেক্স বা সঙ্গম করে, অথবা একজন স্ত্রীলোক বা একজন মহিলা যখন অন্য আরেকজন স্ত্রীলোক বা মহিলার সাথে সেক্স বা সঙ্গম করে তখন ওই সেক্স বা সঙ্গমকে সমকামিতা বা uranism বলা হয়। আর ওই পুরুষকে বলা হয় সমকামী পুরুষ। ইংরেজিতে বলা হয় Nancy। আর ওই মহিলাকে বলা হয় সমকামী স্ত্রীলোক। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় Lesbian।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো- পৃথিবী সৃষ্টি অবধি আজ পর্যন্ত কেউ দেখেনি যে, একটা পুরুষ কুকুর আরেকটা পুরুষ কুকুরের সাথে সমকামিতা বা sexual inversion করে। কিংবা এও দেখা যায়নি- একটা স্ত্রী কুকুর আরেকটা স্ত্রী কুকুরের সাথে সমকামিতা করতে। অর্থাৎ একটা কুকুরও Nancy নয়, কিংবা একটা কুকুরও Lesbian নয়। অথবা, পৃথিবীর কোনো অনুন্নত কিংবা ক্ষীণ বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণিও সমকামিতায় অভ্যস্ত নয়।

এমনকি আমরা যদি একটি সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননের মাধ্যমে বংশবিস্তার লক্ষ করি, তাহলে আমরা দেখতে পাব সেখানেও পুং গ্যামেট এবং স্ত্রী গ্যামেটের উপস্থিতি।  একটি পুং গ্যামেট অন্য আরেকটি স্ত্রী গ্যামেটের সাথে পূর্ণভাবে মিলিত হলে তাকে নিষিক্তকরণ বলে। আর এই নিষিক্তকরণের প্রক্রিয়া শেষ হলে ফল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই ফল থেকেই বীজ হয়, ওই বীজ থেকেই নতুন গাছের জন্ম হয়। অর্থাৎ সপুষ্পক উদ্ভিদের ক্ষেত্রেও Nancy কিংবা Lesbian এর বিন্দুমাত্র জায়গা নেই।

অথচ পৃথিবীর সকল প্রাণির চেয়ে মানুষ উন্নত মস্তিষ্ক, বিবেক, বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও মানুষ সমকামিতায় লিপ্ত এবং এই সমকামিতাকে বৈধ বলে ঘোষণা দেয়। Nancy কিংবা Lesbian এর মতো অসুস্থ, জঘন্য, চির জাহেলি, নোংরামি এবং অরুচি ও কুরুচিতাকেও বৈধ বলে ঘোষণা দেয়। তব কি আমরা আজ মানুষ হয়েও কুকুর বা অন্যান্য পশু-জানোয়ার কিংবা উদ্ভিদের  চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে গেলাম? কুরুচিপূর্ণ হয়ে গেলাম?

আফ্রিকা-ইউরোপের কিছু দেশে সমকামিতা প্রায় বৈধ-ই। আর সেই পথে হাঁটল দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশ ভারত। কারণে সমকামিতাকে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বৈধতা দিয়েছে। ব্রিটিশ আমলে জারি করা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা মোতাবেক অস্বাভাবিক যৌনতা ছিল অপরাধ। সেই দণ্ডবিধি ৩৭৭ ধারা বাতিল করে ভারতের উচ্চ আদালত ঘোষণা দিলো যে- সমকামিতা অপরাধ নয়। অর্থাৎ সমকামিতা বৈধ। কিন্তু আমি বলি, এটা শুধু অপরাধই নয়, বরং ভয়াবহ অপরাধ। আমি আরো মনে করি, এটি অসুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক, নৈতিকতাবর্জিত কর্মকাণ্ড, সামাজিক অবক্ষয়ের নামান্তর। সুতারাং যে কর্মকাণ্ড- ক্রিয়াকলাপ অসুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক, নৈতিকতাবর্জিত, অমানুষের কসুর, সেটাই অপরাধ। কিংবা জঘন্যতম অপরাধ বললেও ভুল হবে না।

সৃষ্টির সৌন্দর্য স্ত্রীলিঙ্গ এবং পুংলিঙ্গের সোহাগ মিলন ভালোবাসায় প্রস্ফুটিত হয়, বিচ্ছুরিত হয়। পক্ষান্তরে এই সমকামিতা এই সৌন্দর্য্যের অবমানকারী কিংবা শ্রী-নিঃশেষক। আর যে ক্রিয়াকলাপ বুদ্ধিহীন, অনুন্নত মস্তিষ্কের পশুর নিকটেও সমীচীন বলে গণ্য নয়, তা কেবলই অপরাধ এবং এক ধরনের নোংরামিযুক্ত কুরুচিপূর্ণ আচরণ। তাই আমি সমকামিতাকে অপরাধ বলেই গণ্য করি।

আবার কিছু কিছু লোক বলে থাকে, সমকামিতার বৈধতা হলে মানুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু আমি বলি, মানুষ থাকলেই তো মানুষের সমঅধিকারের প্রশ্ন আসবে। কিন্তু মানুষ যখন পশুর চেয়েও অধম কিংবা অমানুষ হয় তখন আবার কীসের অধিকার? মানুষ যখন পশু কিংবা অমানুষ হয়ে যায় তখন তার উপযুক্ত শিক্ষার প্রয়োজন।

আবার কিছু কিছু লোক সমকামিতার সাথে মানবাধিকার বিষয়টাকেও যুক্ত করে। কিন্তু আমি মনে করি, ওই মানুষগুলো আদৌ জানে না মানবাধিকার কী?

ভারতে সমকামিতাকে বৈধতা দেওয়ার পর গুঞ্জন উঠে বিচারক ব্রাঞ্চে যারা ছিল তারা নাকি সমকামী। ‘বুঝলেই তো দেশি- কিছু তো কিছু ঘটে, তবেই তো রটে’। হ্যাঁ, এই গুঞ্জন ফেলে দেওয়ার মতো না। কারণ দেখা যাচ্ছে, ভারতে এই রায়ের বৈধতায় হাতে গোণা যে কয়েকজন উচ্ছসিত, তাদের মধ্যে কয়েকজন স্বঘোষিত সমকামী। সুতারাং শুধু ভারতে নয়, পৃথিবীর যে প্রান্তেই যে স্থানেই যারা সমকামিতাকে সমর্থন করে তারা হয় স্বঘোষিত না হয় অঘোষিত সমকামী। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা আধুনিক যুগে বাস করি, আমরা আধুনিক, আদিম নয়। আদিম যুগে ফিরেও যাব না ( আদিম যুগেও এটা রুচিপূর্ণ ছিল কি না জানা নেই)।

সুতারাং আমি মনে করি- সমকামিতা হলো এক ধরনের মানসিক রোগ। এই মানসিক রোগের প্রয়োজন চিকিৎসা, বৈধতা নয়।

লেখক: ছাত্র, এমবিএ, চৌমুহনী সরকারি এস এ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।

About Desk

Check Also

স্তানিলাভস্কির অভিনয় পদ্ধতি

অনুবাদঃ সাইদুজ্জামান স্তানিস্লাভস্কি (প্রকৃত নাম আলেকসেয়েভ) কনস্তান্‌তিন সেরগেয়েভিচ (১৮৬৩-১৯৩৮), রুশ পরিচালক, অভিনেতা, নাট্যতাত্ত্বিক , সোভিয়েত …

Leave a Reply