Home / লাইফস্টাইল / শীত ফ্যাশনে কোট-ব্লেজার

শীত ফ্যাশনে কোট-ব্লেজার

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি
ডেস্ক: ফরমাল কিংবা ক্যাজুয়াল লুকে যোগ হয়েছে ব্লেজারের নতুন ট্রেন্ড। আর ক্যাজুয়াল ফ্যাশনে যোগ হয়েছে ফ্লোরাল কোট। রঙবৈচিত্র্য এবং কাটিংয়ে নতুনত্বের সঙ্গে এসেছে ফিউশন স্টাইল। বিস্তারিত জানাচ্ছেন- ইসমত জেরিন স্মিতা

শীতের সময়ে চাই কোট-ব্লেজার। শুধু শীত নিবারণের জন্য নয়, স্মার্টনেসের সঙ্গে ফ্যাশনেবল এবং স্টাইলিশ পোশাক চাই। একটু ট্রেন্ডি স্টাইলের কথাও মাথায় রাখতে হয় তরুণদের। তাই এ সময় শীত ফ্যাশনেও এসেছে বৈচিত্র্য, যোগ হয়েছে নতুন অনেক কিছু। আজকাল অফিস, পার্টি কিংবা যে কোনো জায়গায় বেড়াতে বের হলে সাধারণত ব্লেজার পরছে তরুণরা। শুধু তরুণরাই নয়, যে কোনো বয়সের মানুষকেই ব্লেজারে বেশ মানিয়ে যায়। এর সঙ্গে মেয়েরাও ব্লেজার পরছেন।

এ বছর ফ্লোরাল এক বা দুই বোতামের ব্লেজারের চাহিদা বেশি। বিশেষ করে তরুণরা এ ধরনের ফ্লোরাল ব্লেজার পছন্দ করছেন। আবার বিভিন্ন ব্র্যান্ড কোটেও এনেছে ফ্লোরাল প্রিন্টের ডিজাইন। মার্কেটগুলোয় চামড়া ও সুতি ছাড়াও ডেনিম কাপড়ের ব্লেজার বেশ ভালো চলছে। নতুন ট্রেন্ড হিসেবে মখমলের ব্লেজারও কম যায় না। এ ছাড়া পাবেন সিলকট, উলেন ফেব্রিকের ব্লেজার। তরুণরা ক্যাজুয়াল ব্লেজারের দিকেই ঝুঁকছে বেশি। সেই সঙ্গে স্লিমফিট ও নিচে রাউন্ড শেপটাই পছন্দ করছে তারা। দুই বা তিন বোতামের ব্লেজারের চাহিদা বেশি থাকলেও এটি না লাগিয়ে খোলা রাখতেই পছন্দ করছেন এখনকার তরুণরা।

শেপ বুঝে ব্লেজার বা কোট

অফিসে এখন সাধারণত ব্লেজার ও স্যুটই পরছেন ছেলেরা। মেয়েরাও ম্যাচিং করে মানিয়ে পরছেন ব্লেজার। আবার সব সময় ফরমাল নয়, একটু ক্যাজুয়াল ধাঁচের তৈরি হচ্ছে এখনকার ব্লেজারগুলো। যেভাবে বা যেখানেই পরুন না কেন, ব্লেজারের কাটিং ও ফিটিংটা কিন্তু বেশি জরুরি। ব্লেজার পরার সময় শরীরের গঠন ও মুখের গড়ন বিবেচনা করা উচিত। যেমন শারীরিক গঠন মোটা হলে এক বোতাম, চিকন ও মাঝারি হলে দুই-তিন বোতাম দিয়ে ব্লেজার পরলে ভালো দেখাবে। উচ্চতা যাদের কম, তাদের স্ট্রাইপ ব্লেজার পরা ভালো। এতে কিছুটা হলেও লম্বা দেখাবে। আবার এক রঙের চেক ব্লেজার বেশি মানিয়ে যাবে যাদের উচ্চতা বেশি তাদের ক্ষেত্রে। যারা মাঝারি গড়নের, তারা যে কোনোটিই পরতে পারেন। ফ্যাশনেবল লুক আনতে ব্লেজারের কাটিং ও শরীরের সঙ্গে ফিটিং হওয়াটা জরুরি।

কাঁধ ঝুলে গেলেও চলবে না আবার হাত যেখানে শেষ, এর থেকে আধা ইঞ্চি মতো শার্টের কাফ দেখা গেলে লুকটা বেশ স্টাইলিশ হবে। আর মনে রাখবেন, গাঢ় রঙের ব্লেজারের সঙ্গে হালকা রঙের শার্ট আর হালকা রঙের ব্লেজারের সঙ্গে গাঢ় রঙের শার্ট মানানসই। কলার বা পকেটের ডিজাইনের মধ্যে আছে পাইপিং, অ্যাঙ্গেল পকেট, রুল কলার, তালিপকেট ইত্যাদি ডিজাইনের ভিন্নতা।

ব্লেজারের যে চমকপ্রদ ভাব রয়েছে সে রকম তো আছেই; সঙ্গে রয়েছে একটু ভিন্ন ডিজাইন করা ব্লেজারও। সুতি কাপড়ে করা হচ্ছে ব্লেজার। আবার কোটের ক্ষেত্রে তেমন কোনো ঝামেলা নেই। শুধু নিজের মেজারমেন্ট বুঝে বাছাই করতে হবে। তবে আপনার ভ্রমণ বা স্থানভেদে পছন্দ করতে পারেন বৈচিত্র্যময় কোট।

কোথায় পাবেন স্টাইলিশ ব্লেজার এবং কোট

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অফিশিয়াল পোশাকের গ-ন্ডি পেরিয়ে ফ্যাশন সচেতনদের পছন্দের পোশাকের জায়গা দখল করে নিয়েছে ব্লেজার। তরুণ প্রজন্মের চাহিদা অনুযায়ী ভিন্নতা এসেছে এর ডিজাইনে। ফরমাল ও ক্যাজুয়াল ব্লেজারে ছেয়ে আছে রাজধানীর তৈরি পোশাকের দোকানগুলো।

প্রিয় তারকাদের পরা ব্লেজারের ডিজাইন অনুযায়ী ব্লেজার বানাতে অনেকেই ছুটছেন দর্জিবাড়িতে। তবে হাল ফ্যাশনের রেডিমেড ব্লেজার কিনতে চাইলে যেতে হবে সেইলর, আর্টিস্টি, ইয়েলো, ক্যাটস আই, ফ্রিল্যান্ড, রিচম্যান, দর্জিবাড়ি, জেন্টলপার্ক, জারা ম্যান, এক্সটেসি, স্মার্টেক্স প্রভৃতি দোকানে। রাজধানীর বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস নানা ছাঁটের এবং নানা রঙের ব্লেজার এনেছে বাজারে। এ ছাড়া বসুন্ধরা সিটি, নিউমার্কেট, বঙ্গবাজারেও পাওয়া যাবে নানা ডিজাইনের ব্লেজার।

বসুন্ধরা সিটি মার্কেটের রিচম্যান ফ্যাশন হাউসের ম্যানেজার কবির জানালেন এবারের হাল ফ্যাশনে ব্লেজারের ধরন এবং চাহিদা সম্পর্কে। তিনি বলেন, আসলে তরুণরাই ব্লেজার পরতে বেশি আগ্রহী। যেহেতু শীত তাই এখন ব্লেজার কিনছেন করছেন অনেকেই। আমাদের এখানে এবার ক্যাজুয়াল, কালারফুল ব্লেজারগুলো বেশি চলছে। সিলকট কাপড়ের ব্লেজারগুলো পকেটে পাইপিং দেওয়া। একটু ভিন্ন ডিজাইনের এসব ক্যাজুয়াল ব্লেজার বেশি পছন্দ তরুণদের। মেয়েদের এসব ব্লেজার বেশি মানিয়ে যায়। বিশেষ করে নেভি ব্লু, কফি কালার, গ্রিন, হালকা মেরুন, অফহোয়াইট এসব কালারের প্রতি এবার তরুণদের আগ্রহ বেশি।

আর সিঙ্গেল বাটন স্টাইলটাই তরুণরা বেশি প্রেফার করছেন। তরুণ-তরুণীরা একই ধরনের স্টাইল ফলো করছেন। আসলে এবার ফরমালের চেয়ে ক্যাজুয়াল ব্লেজারগুলোর প্রতি সবার আকর্ষণ বেশি। আমাদের এখানে শুধু ব্লেজার ২২৫০ থেকে ৩২শ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। প্রডাক্টগুলো আমাদের নিজেদের।

এক্সটাসির ইন হাউস ব্র্যান্ড তানজিম স্ট্রিটের এক্সিকিউটিভ শাওন জানালেন, এবারের শীত ফ্যাশনে টু বাটন উলের চকোলেট, নেভি ব্লু, অফহোয়াইট, ব্লু, গ্রিন কালারের ব্লেজারগুলো চলছে। তবে চকোলেট কালারটা বেশি পছন্দ করছেন তরুণরা। এগুলো ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।

বসুন্ধরা সিটিমলের লেভেল টু-এ জারাম্যান থেকে জানা গেল ফরমাল ব্লেজারের কালেকশন নিয়ে। যারা শুধু ফরমাল ব্লেজারকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তারা এ ধরনের শপ থেকে কমপ্লিট স্যুট-প্যান্ট নিতে পারেন। এক্সিউটিভ মোস্তফা জানালেন, আমাদের এখানে বেশিরভাগ ব্লেজারই চায়না থেকে আসে। ফরমাল ব্লেজারে আসলে তেমন কোনো ডিজাইন করার অপশন থাকে না।

শুধু মেটারিয়ালে কোয়ালিটির একটি বিষয় থাকে। ফরমাল ব্লেজার সিঙ্গেল নিতে আপনাকে খরচ করতে হবে ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। আর কমপ্লিট নিতে খরচ পড়বে ১৪ হাজার ৫শ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে।

বসুন্ধরা সিটিতে সেইলরের আউটলেটে পাওয়া যাবে মেয়েদের ফ্লোরাল প্রিন্টেড ব্লেজার। ভিন্ন রঙবৈচিত্র্যের ব্লেজারগুলো আছে এক বা দুই বাটনে। এক্সিকিউটিভ মেহেদি হাসান জানালেন, এসব ফ্লোরাল প্রিন্টের ব্লেজার এবার খুব পছন্দ করছেন তরুণরা।

হালকা শীত ছাড়াও দিনের বেলায় যে কোনো পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যাবে এগুলো। দামও একদম সাধ্যের মধ্যে। ফ্লোরাল প্রিন্টেড ব্লেজারগুলোর দাম পরবে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে।

এ ছাড়া কাপড় কিনে পছন্দের ডিজাইনের ব্লেজার বা কমপ্লিট বানাতে চাইলে যেতে হবে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড কিংবা এলাকা বুঝে ব্র্যান্ডের দর্জিবাড়িতে। ব্লেজারের কাপড় যাচাই-বাছাই করার অভিজ্ঞতা না থাকলে একদরের দোকানগুলো থেকেই কাপড় কেনা ভালো।

ফপস, টপটেন, ফেরদৌস, সানমুন, রেমন্ড এসব দোকানের কাজ খুব ভালো। তাই এসব দর্জিশপ থেকে তৈরি করিয়ে নিতে পারেন আপনার পছন্দের ব্লেজার। ব্লেজার বানানোর মজুরি গুনতে হবে ৩ হাজার ৫শ থেকে ৮ হাজার টাকা।

কাজের মান ও জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে মজুরি কমবেশি হতে পারে। তবে একটু তুলনামূলক কম দামে ব্লেজার বা কমপ্লিট বানাতে চাইলে ঢুঁ দিতে পারেন রাজধানীর নীলক্ষেতের কাপড়ের দোকানগুলোয়। এখানে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে প্যান্টসহ ব্লেজার বানিয়ে নিতে পারবেন।

সেরানিউজ২৪/আই.জে

About Desk

Check Also

নতুন ব্লেজার ডিজাইন ২০১৯

প্রতি বছর শীত মৌসুম শুরু হলেই ফ্যাশন ট্রেন্ডেও আসে নানা পরিবর্তন।তবে আজকাল আর শীত বলে …

Leave a Reply