Home / অর্থ-বাণিজ্য / ৫ বছরে পাট খাত বস্ত্র খাতকে টপকে যাবে -মির্জা আজম

৫ বছরে পাট খাত বস্ত্র খাতকে টপকে যাবে -মির্জা আজম

ঢাকা, ১১ মার্চ
ডেস্ক: আগামী ৫ বছরে পাট খাত বস্ত্র খাতকে টপকাবে। বস্ত্র খাতে গত ৩০ বছরে যে সাফল্য অর্জিত হয়েছে সেই জায়গা দখল করবে পাট খাত বলে আশাবাদী বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী ।
তিনি বলেন, ‘পাট খাতে অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। পাট ও পাট পণ্যের এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এই খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজার সৃষ্টি, রফতানি সম্প্রসারণ ও চাহিদা মাফিক পাট বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী ৫ বছরে পাট বস্ত্র খাতের গত ৩০ বছরের বিশাল অর্জনকে পেছনে ফেলবে।’

অাজ শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পাট খাতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জুট মিলস্ করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান, পাট অধিদফতরের মহাপরিচালক মোসলেহ উদ্দিন, বাংলাদেশ জুট ডাইভারসিফাইড প্রোডাক্ট ম্যানুফেকচারাস এন্ড এক্সপোটার্স এসোসিয়েশনের (বিডিজেএমইএ) সভাপতি মো. রাশিদুল করিম মুন্না, বাংলাদেশ সিপার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

পাটের অফুরন্ত সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা হবে উল্লেখ করে মির্জা আজম বলেন, পাট নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে ইতোমধ্যে পাট আইন-২০১৭ পাস হয়েছে। পাট পণ্য বহুমুখীকরণে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহয়াতা দেয়া হচ্ছে। যাতে রফতানি বৃদ্ধি পায়। একই সাথে দেশের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজার সৃষ্টি করতে জেলা পর্যায়ে এক্সিবিশন সেন্টার খোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিজেএমসির লোকসান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেএমসিতে আগে নিয়মের বালাই ছিল না, অনিয়মই নিয়ম। সরকারের পক্ষ থেকেই দুর্নীতি করা হয়েছে। তবে আমরা এখন বিজেএমসি’র অনিয়ম-দুর্নীতি উদঘাটন করছি। অনিয়ম ইতোমধ্যে অনেক কমিয়ে এনেছি। এ জন্য এবছর আমরা ২০০ কোটি টাকা লোকসান কমাতে সক্ষম হয়েছি।’ তবে বিজেএমসির লোকসানের পেছনে কিছু যৌক্তিক কারণ আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় পাট খাত ধ্বংস করতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, তখন বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে আদমজী জুট মিল বন্ধ করা হয়েছিল।অথচ ওই সময়ে পার্শ্ববর্তী ভারতে নতুন ৯টি পাটকলে অর্থ সহায়তা দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক।

মির্জা আজম বলেন, বাংলাদেশের পাট পণ্য বিশ্ববাজারে পরিচিত করতে আন্তর্জাতিক পাট পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজনের কথা ভাবছে সরকার।

সেমিনারে বিডিজেএমইএ সভাপতি মো. রাশিদুল করিম মুন্না জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ২৮টি দেশে পলিথিন ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে ওইদেশগুলোতে বার্ষিক ৩৯ বিলিয়ন পাট ব্যাগের চাহিদার সৃষ্টি হবে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম তার মূল প্রবন্ধে বলেন, দেশের অভ্যন্তরে পাট পণ্যের বড় ধরনের চাহিদা রয়েছে। এর জন্য সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, দেশের ভেতরে ৫০ কেজি ওজনের ২৯২ কোটি পাট বস্তার চাহিদা রয়েছে। তাই এখন পাট খাতে সরকার যে প্রনোদনা দেয়, এতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে। এমনভাবে সহায়তা করতে হবে যা কাজে লাগিয়ে লাভবান হতে পারে।

সেরানিউজ২৪/আই.জে

About Mr. Rakib

Check Also

রমজান মাসে ব্যাংকের নতুন কর্মসূচি

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ব্যাংক লেনদেনের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে।  আজ রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট …

Leave a Reply